মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বাংলাদেশর জ্বালানি ভর্তুকিতে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাড়তি চাপ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে বাংলাদেশর জ্বালানি ভর্তুকিতে ৩৬ হাজার কোটি টাকার বাড়তি চাপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:২৫

একদিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান সংকট—এই দুইয়ের টানাপড়েনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি। শুক্রবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারায় দেওয়া এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও এলএনজির দাম দ্বিগুণ হওয়ার ফলে চলতি অর্থবছরের মাত্র চার মাসেই (মার্চ-জুন) বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে সরকারকে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় হিসেবে গুনতে হবে। আর্থিক এই চাপ সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে অফিস সময় কমানো, দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং বাজার দ্রুত বন্ধ করার মতো কঠোর জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেও সাধারণ নাগরিক ও শিল্প খাতের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপাতে আপাতত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

সংসদীয় বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী তার দলের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার স্মরণ করে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে অর্থনৈতিক মুক্তির যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে বেগম খালেদা জিয়া ভ্যাট ব্যবস্থা ও বেসরকারি খাতের বিকাশের মাধ্যমে যে শক্তিশালী ভিত্তি গড়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও সরকার সুশাসন ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার অঙ্গীকার করেছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হিসেবে ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং প্রকৃত উৎপাদকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের তথ্য জানিয়ে তিনি তৃণমূলের অর্থনীতি সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইসিটি, ব্লু-ইকোনমি এবং আঞ্চলিক সৃজনশীল হাবের মাধ্যমে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যকে বিশ্বদরবারে অনন্য উচ্চতায় নিতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড প্রবর্তনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তার আবেদন করার পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং গ্রিন বন্ড ও সুকুক বন্ডের মতো আধুনিক আর্থিক সরঞ্জামের মাধ্যমে পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনা ও জনগণের সহযোগিতায় বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক সংকট কাটিয়ে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হবে।