ডিজেলের বিকল্প সৌর সেচের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়

ডিজেলের বিকল্প সৌর সেচের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৩৯

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের তীব্র অস্থিরতা এবং আমদানিনির্ভর ডিজেলের ক্রমবর্ধমান দামের মুখে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি খাতে এক নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে সৌরশক্তি। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রসারে কৃষকদের চিরাচরিত ডিজেল নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সেচ মৌসুমে রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় প্রায় ৫৯৬টি সৌর সেচ ইউনিট চালু ছিল। এই ইউনিটগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫.৯ থেকে ৫.৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র চার মাসের সেচ মৌসুমে এই ব্যবস্থার ফলে প্রায় ৭৫ লাখ লিটার ডিজেল সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, সৌর সেচ পদ্ধতি তাদের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে আগে যেখানে সঠিক সময়ে জমিতে পানি দেওয়া কঠিন ছিল, সেখানে এখন রোদ থাকলেই নির্বিঘ্নে সেচ কাজ চালানো যাচ্ছে। ভুট্টা ও শাকসবজি চাষিরা জানাচ্ছেন, সৌরশক্তির ব্যবহারের ফলে তাদের বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ পূর্বের তুলনায় অনেক কমেছে।

তবে এই অগ্রগতির মাঝেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কৃষকদের মতে, বছরের অন্তত আট মাস যখন সেচের প্রয়োজন থাকে না, তখন এই বিশাল সৌর প্যানেলগুলো অব্যবহৃত পড়ে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ‘নেট মিটারিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায়, তবে কৃষকরা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবেন এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতিও মোকাবিলা করা সহজ হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য ডিজেল থেকে সৌর শক্তিতে এই রূপান্তর একটি টেকসই সমাধান। তারা এই প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো এবং বিদ্যমান সিস্টেমগুলোকে আধুনিকায়ন করার ওপর জোর দিয়েছেন। কৃষি ও জ্বালানি খাতের এই সমন্বয় আগামী দিনে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।