বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় সচল হওয়ার খবর মিললেও, সেখানে প্রবেশে আবারও ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার গভীর রাতে বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য রুটটি উন্মুক্ত হওয়ার খবরের ভিত্তিতে জাহাজটি প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করলে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাভে ব্যর্থ হয়ে পুনরায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স বা অনুমতি না পাওয়ায় সেটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করেছেন যে, অনুমতি না মেলায় জাহাজটিকে বর্তমানে পারস্য উপসাগরের একটি নিরাপদ নোঙরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
৩৭ হাজার টন সার নিয়ে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই জাহাজটি গত ৪৮ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আটকা পড়ে আছে। এই দীর্ঘসূত্রতা বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক বাণিজ্যের অস্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত রুটের ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এল। মূলত ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই জাহাজটির যাত্রা বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কথিত যুদ্ধবিরতির পর জাহাজটি পুনরায় যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ১০ এপ্রিল একবার এবং সবশেষ শুক্রবার রাতে আরেকবার সেটিকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। অথচ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে এই জাহাজটি নির্বিঘ্নেই উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল এবং কাতার থেকে দুবাইয়ে স্টিল কয়েল পরিবহন করেছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সেটিকে কুয়েত যাওয়ার বদলে সারের কার্গো নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এমভি বাংলার জয়যাত্রার মতো সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজেরও এই প্রবেশাধিকারহীনতা নির্দেশ করে যে, এই রুটে এখনো অপারেশনাল ঝুঁকি অত্যন্ত প্রবল। এর ফলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, বরং সারের মতো কৃষি উপকরণের আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
আংশিক চলাচলের সংকেত থাকলেও ‘বাংলার জয়যাত্রা’র মতো জাহাজের অনুমতি না পাওয়া প্রমাণ করে যে, পারস্য উপসাগরে এখনো নিরাপদ ও সুনিশ্চিত নৌ-চলাচলের পরিবেশ ফিরে আসেনি। এই অনিশ্চয়তা বিশ্বব্যাপী ফ্রেইট কস্ট বা জাহাজ ভাড়া এবং বীমা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে প্রভাব ফেলছে।
আরো পড়ুন: