আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অব্যাহত অস্থিরতা এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মূল্য কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্রিফিংয়ে তিনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন জানান, গত কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকারের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ, ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং বহুমুখী ক্রয় কৌশলের কারণে দেশের বাজারে এর বড় কোনো প্রভাব পড়তে দেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে একটি আধুনিক ‘ফুয়েল কার্ড’ বা জ্বালানি কার্ড ব্যবস্থা প্রবর্তনের তথ্য জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয় রোধ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের গত দুই মাসের মেয়াদে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস, বিশেষ করে সৌরশক্তি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।
জ্বালানির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণকে সরকারের অন্যতম নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মাহদী আমিন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও বিগত রমজান মাসে বাজার পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে স্থিতিশীল ছিল। আর্থিক খাতে তারল্য সংকট থাকলেও খাদ্যশস্য এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যাহত হতে দেয়নি সরকার। সুশৃঙ্খল সরবরাহ ব্যবস্থার কারণেই বাজারে বড় ধরনের কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি এবং মুদ্রাস্ফীতিকে একটি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
সরকারের এই দুই মাসের কার্যক্রমকে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি সফল সূচনা হিসেবে দেখছেন নীতি-নির্ধারকরা। তবে বিশ্ববাজারের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে ভর্তুকি ও মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকার আরও সতর্ক অবস্থান নেবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন: