ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, 'আমার নির্বাচনি এলাকা আশুগঞ্জ একটা শিল্পনগরী। এখানে সার কারখানা, বিদ্যুৎ, মিল, ফ্যাক্টারি আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস যায় সারাদেশে, কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ গ্যাস পায় না। তিসাস গ্যাস ফিল্ড বাংলাদেশের অন্যতম গ্যাস কেন্দ্র। এখান থেকে ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ হচ্ছে। অথচ আমার নির্বাচনি এলাকায় সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। চুলা মিট মিট করে জ্বলে। এর পরে মন চাইলে এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস আসে, তারপরে আর খবর নাই।'
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নিজের প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, 'বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকায় এক-দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকলেও গ্রামে ১৪ ঘণ্টা গড়ায়। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে এখন গ্যাস ছাড়া কারোর চুলা জ্বালানোর পথ নেই।'
তিনি বলেন, 'দেশে গ্যাসের সংকট আছে তারপরে শীতকালে চাহিদা আরও বাড়ে। অন্যদিকে আছে অবৈধ সংযোগ। ২০১৬ সাল থেকে বাসা-বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া বন্ধ হলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাহায্যে এখনও বেশ কিছু মানুষ অবৈধ সংযোগ নিয়ে রেখেছে। এতে করে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। যাদের বাড়িতে (বৈধ) লাইন আছে তারাও গ্যাস পাচ্ছে না। এখন এলপিজি ও বৈদ্যতিক চুলাই ভরসা।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাদের জীবনমান এতই উন্নয়ন হয়েছে যে গ্রামের মানুষ ফ্ল্যাটে থাকে, উঠান পাকা। মাটির চুলায় রান্না করা এখন বাস্তবতা বিবর্জিত। এক হাজার ৯০০ টাকার সিলিন্ডার ২২০০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। ঢাকায় এক দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকলেও গ্রামে ১৪ ঘণ্টা গড়ায়। গ্যাস ছাড়া চুলা জ্বালানোর পথ নাই। আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পাবে, তার পরে অন্য জায়গায় যাবে।'
Tag:
আরো পড়ুন: