শেরপুর জেলায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে দিন ও রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন জেলার বাসিন্দারা। গ্রামীণ এলাকায় দিনে-রাতে গড়ে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টারও বেশি লোডশেডিং হওয়ায় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার যোগাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা নবর আলী বলেন, “দিনে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ যায়। আধাঘণ্টা থাকলে তিন-চার ঘণ্টা থাকে না। রাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়, গরমে ঘুমানো যায় না।”
তিনি আরও বলেন, সাবমার্সিবল পাম্প দিয়ে পানি তুলতে না পারায় বিকল্পভাবে স্যালো মেশিন চালাতে হচ্ছে, কিন্তু তেলের সংকট ও বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
শুধু এ এলাকা নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চলমান এসএসসি পরীক্ষার শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবি সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম থাকায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। শেরপুর পিডিবির অধীনে প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে চাহিদা ৪২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে ২৫–৩০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৩০–৩৫ মেগাওয়াট।
এর ফলে প্রতিদিন বড় ধরনের বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং ব্যাপক লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রীবরদী উপজেলার কৃষক মিজান উদ্দিন বলেন, “রাতে এক-দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, তারপর আবার চলে যায়। ইরি ধানের সেচ ঠিকমতো দিতে পারছি না।”
এসএসসি পরীক্ষার্থী আলতাফ হোসেন বলেন, “গরমে পড়াশোনা করা যাচ্ছে না, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।”
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় দৈনিক প্রায় ১০–১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে শেরপুর জেলা পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী সাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে সরবরাহ কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
আরো পড়ুন: