রাজধানী ঢাকার পেট্রোল পাম্পগুলোতে কয়েকদিন আগেও যেখানে জ্বালানি নিতে দেখা যেত দীর্ঘ সারি ও ভিড়, সেখানে এখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে ক্রেতার চাপ কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে কার্যক্রম। ক্রেতার ভিড় না থাকায় এখন অনেক ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন।
বুধবার রাজধানীর অনেক পেট্রোল পাম্পে এমন চিত্র দেখা যায়। দুই-একটি পেট্রোল পাম্পে ভিড় থাকলেও লাইন খুব একটা বড় ছিল না।
কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ এলাকার পূর্বাচল ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশনের অপারেটর সাইফুল ইসলাম বলেন, 'দুপুর থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিনি মাত্র দু’জন মোটরসাইকেল চালককে অকটেন দিয়েছি। এক সপ্তাহ আগেও এখানে তেল দিতে হিমশিম খেতে হতো। লম্বা লাইনের কারণে ভিড় লেগে যেত। এখন তেল নিয়ে বসে আছি, কিন্তু ক্রেতা নেই।'
বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমন হোসেন বলেন, ‘ফুয়েল পাসের মাধ্যমে তেল নিয়েছি, লাইনে তেমন ভিড় ছিল না। প্যানিক কমে যাওয়ায় লাইনও কমে গেছে। সরবরাহ বাড়ানোর কারণেও লাইন কমতে পারে।’
পাম্প কর্তৃপক্ষ ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে লাইন কমে যাওয়ার পেছনে প্রধান কারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমে যাওয়া, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু হওয়া।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও রমনা পেট্রোল পাম্পের মালিক নাজমুল হক বলেন, 'মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমে যাওয়ায় পাম্পগুলোতে আর লাইন নেই। সরবরাহ বাড়ানোর ফলেও এই পরিবর্তন এসেছে। আমরা শুরু থেকেই সরকারকে বলে আসছিলাম- সরবরাহ বাড়ালে লাইন থাকবে না। এখন সেটাই হয়েছে।'
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের হেড অব বিজনেস অপারেশন হেমোলাল মন্ডল (হিমালয়) বলেন, 'সরকার সরবরাহ বাড়িয়েছে। আমরাও মানুষের চাহিদা মতো দিচ্ছি। মানুষের মাঝে যে আতঙ্ক ছিল, তা কমেছে। ফলে, লাইন একদম নেই বললেই চলে। এছাড়া আমরা ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দেওয়ায় লাইন কমে গেছে।'
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩ লাখের বেশি মোটরসাইকেল ফুয়েল পাসে নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার। দিন দিন আবেদন বেড়েই চলছে।
মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর ১১টি পাম্পে বাধ্যতামূলক ভাবে কিউআর কোডভিত্তিক ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করে জ্বালানি বিভাগ।
এছাড়া, গত ২১ এপ্রিল জ্বালানি তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি করে সরকার। ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। এরপর থেকেই মূলত আতঙ্ক কমতে থাকে। পাশাপাশি ক্রেতাদের লাইনও কমতে থাকে।
Tag:
আরো পড়ুন: