মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এশিয়ায় মার্কিন এলএনজি রপ্তানি বেড়েছে ১৭৫%

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এশিয়ায় মার্কিন এলএনজি রপ্তানি বেড়েছে ১৭৫%

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ মে, ২০২৬ ২১:৪৯

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা ও সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট সংকটের মাঝে এশিয়ায় মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থিক তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান লসজে (LSEG)-এর জাহাজ ট্র্যাকিং উপাত্ত অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-চতুর্থাংশই ছিল এশিয়ামুখী। এই প্রবণতা বিশ্ববাজারে একটি নমনীয় সরবরাহকারী হিসেবে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলার পর থেকেই এশিয়ায় মার্কিন জ্বালানির প্রবাহ বাড়তে শুরু করে। ফেব্রুয়ারিতে এই সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৯ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন, যা মার্চে বেড়ে দাঁড়ায় ১.৯৯ মিলিয়ন টনে। এপ্রিল মাসে তা আরও লাফিয়ে ২.৭১ মিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা গত দুই মাসের তুলনায় ১৭৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিয়মিত জ্বালানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় এশীয় দেশগুলো বিকল্প হিসেবে মার্কিন বাজারের দিকে ঝুঁকছে।

এশিয়ায় চাহিদা বাড়লেও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক এলএনজি রপ্তানিতে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। মার্চে যেখানে রেকর্ড ১১.৭ মিলিয়ন মেট্রিক টন রপ্তানি হয়েছিল, এপ্রিলে তা কমে ১০.৯৭ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত শিপিং ডে বা জাহাজ চলাচলের দিন কম হওয়া এবং কার্গো লোডিংয়ে বিলম্বের কারণে এই সাময়িক পতন ঘটেছে। তবে রপ্তানি টার্মিনালগুলোতে গ্যাস প্রবাহ ছিল শক্তিশালী, যা প্রতিদিন রেকর্ড ১৮.৮ বিলিয়ন ঘনফুট স্পর্শ করেছে।

আঞ্চলিক হিসেবে ইউরোপ এখনো মার্কিন এলএনজির বৃহত্তম গন্তব্য। এপ্রিল মাসে মহাদেশটি ৬.১৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন গ্যাস গ্রহণ করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট রপ্তানির প্রায় ৫৬ শতাংশ। এছাড়া মিশর ৭ লাখ ১০ হাজার এবং লাতিন আমেরিকা প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি আমদানি করেছে। মাসের উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরল এলএনজি চালান পৌঁছানো। অন্যদিকে, সুয়েজ খালের কাছে অবস্থানরত বেশ কিছু মার্কিন এলএনজিবাহী জাহাজ এখনো সম্ভাব্য ক্রেতার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন রপ্তানি সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে কাতার এনার্জি ও এক্সন মবিলের যৌথ উদ্যোগ ‘গোল্ডেন পাস টার্মিনাল’। এপ্রিল মাসে এই টার্মিনাল থেকে প্রথমবারের মতো বেলজিয়ামে এলএনজি পাঠানো হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখনই কোনো অঞ্চলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, মার্কিন এলএনজি সেই শূন্যস্থান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চিত পরিস্থিতির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র এখন বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার এক অন্যতম নির্ভরতা হয়ে উঠছে।