জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনায় (ইপিএসএমপি) নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি এবং ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ইয়ুথ ফর এনডিসি।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, 'দ্রুত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। খসড়া ইপিএসএমপিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানিনির্ভর ব্যয়বহুল এলএনজির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অব্যাহত নির্ভরতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।'
ইয়ুথ ফর এনডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আমান উল্লাহ পরাগ বলেন, 'বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মাশুল আমরা আর দিতে পারি না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির খরচ বহন করতে গিয়ে আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। আমাদের আরও সাশ্রয়ী জ্বালানি দরকার, আর সে জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।'
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশকে বারবার বৈশ্বিক সংকটে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। দাম বাড়ছে এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত। নতুন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, 'বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।'
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা এখন আর শুধু একটি দাবি নয়। চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আমাদের স্বাধীনতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ করা অনেক অব্যবহৃত জমি পড়ে আছে, যেগুলো দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা উচিত।'
Tag:
আরো পড়ুন: