পাকিস্তান-ইরাকের সঙ্গে ইরানের জ্বালানি পরিবহন চুক্তি

পাকিস্তান-ইরাকের সঙ্গে ইরানের জ্বালানি পরিবহন চুক্তি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ মে, ২০২৬ ১১:৪৬

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে নতুন কৌশল নিয়েছে ইরান। এর অংশ হিসেবে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে সমঝোতা করেছে তেহরান। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে দুই দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই অঞ্চল দিয়েই সরবরাহ হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপের পর হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন পুরো প্রণালি বন্ধ না করে সেখানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের কৌশল গ্রহণ করেছে।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ার বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন আর নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, বরং এটি ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন করিডরের মতো হয়ে উঠছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার আওতায় ইরাকের দুটি বড় তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল।

ইরাকের তেল মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতে আরও জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কারণ দেশের অর্থনীতি তেল আয়ের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল।

অন্যদিকে পৃথক সমঝোতার আওতায় কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী দুটি জাহাজ পাকিস্তানের দিকে রওনা দিয়েছে বলে শিল্প সূত্রগুলো জানিয়েছে। এসব পরিবহনও ইরানের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতিতে আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের সমঝোতায় যেতে পারে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও বাড়াবে।

এদিকে সংঘাতের আগে প্রতিমাসে প্রায় ৩ হাজার জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে এবং তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলেও তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায় এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে এসব দাবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump প্রত্যাখ্যান করেছেন।