নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ও ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যায়ে বড় ধরনের কর সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর আওতায় উৎপাদন পর্যায়ে আয়কর অব্যাহতি এবং ব্যবহারকারীদের জন্য কর রেয়াত সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে কেন্দ্র করে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে সরকার।
মঙ্গলবার (২ জুন) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে উৎপাদন ও সরবরাহে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। এটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে পারে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, কর অব্যাহতির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি আয়কর আইন ২০২৩-এর সব বিধান মেনে চলতে হবে।
এছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ নির্ধারিত পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (পিপিএ) অনুযায়ী ব্যবহারকারীদের সরবরাহ করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট-মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্যও কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করলে পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থ মোট আয়করের বিপরীতে কর রেয়াত হিসেবে পেতে পারে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানিতে উচ্চ শুল্ক থাকলেও তা থেকে বছরে ২০ কোটি টাকার কম রাজস্ব আহরিত হয়। তিন অর্থবছরের হিসাবে এ আয় ৫ থেকে ১৬ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরবিদ্যুৎ যন্ত্রাংশে ২৫ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ করভার থাকায় এই খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোলার পিভি মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও কন্ট্রোলারসহ বিভিন্ন উপকরণের ওপর ভারী শুল্ক আরোপ রয়েছে।
তাদের মতে, কর অব্যাহতি ও রেয়াত বাস্তবায়িত হলে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে গতি আসবে।
আরো পড়ুন: