প্রতি ১০ লিটার তেলে ক্রেতা পাচ্ছিলেন ৯ লিটার

প্রতি ১০ লিটার তেলে ক্রেতা পাচ্ছিলেন ৯ লিটার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ১৮:১৯

রাজধানীর মগবাজারে সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সরণির মইন মটরস ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বিএসটিআই’র একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে ধরা পড়েছে ভয়াবহ কারচুপি। প্রতি ১০ লিটার তেলের দাম নিলেও দেওয়া হচ্ছিল মাত্র ৯ লিটার। 

দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের ঠকিয়ে অবৈধ ভাবে মুনাফা করার অভিযোগে দুটি প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার পাশাপাশি ডিসপেন্সিং ইউনিট সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার বিএসটিআই’র পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসটিআই জানায়, মইন মটরস ফিলিং স্টেশনে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে অকটেন সরবরাহকারী একটি ডিসপেন্সিং ইউনিটে অনিয়ম ধরা পড়ে। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার অকটেন সরবরাহে ৮০ মিলিলিটার কম দেওয়া হচ্ছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিট সিলগালা করা হয়।

এর আগে ০৭ জুন রাজধানীর দারুস সালাম থানার কল্যাণপুর এলাকায় অবস্থিত সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির চারটি ডিসপেন্সিং ইউনিট পরীক্ষা করা হলে দুটি ইউনিটে গুরুতর কারচুপির প্রমাণ পায় বিএসটিআই। যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতি ১০ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি ইউনিটে ১ হাজার ৮০ মিলিলিটার এবং অন্যটিতে ৯৮০ মিলিলিটার তেল কম দেওয়া হচ্ছিল।

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দুটি ডিসপেন্সিং ইউনিট তাৎক্ষণিক ভাবে বন্ধ করে সিলগালা করা হয়।

বিএসটিআই জানায়, দুটি অভিযানে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযানের মাধ্যমে জ্বালানি তেল বিক্রিতে পরিমাপগত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বিএসটিআই’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম এবং সাবেকুন নাহার। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই’র পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রাভী মোহাম্মদ ইতমাম। এছাড়া অভিযানে ফিল্ড অফিসার সুমাইয়া আফরোজ লিজা এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) রেজওয়ানুল ইসলাম অংশ নেন।

ভোক্তা-অধিকার সুরক্ষা এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ।