দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ

দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী করতে ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ
ছবি: পিআইডি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮ জুন, ২০২৬ ২১:৫৮

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ওয়ার্কিং পেপার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ সক্ষমতা, বিদ্যমান দুর্বলতা, স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা চালুর সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, 'পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের প্রাক্কালে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।' বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও যুগোপযোগী করতে একটি জাতীয় গবেষণা কেন্দ্র (ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার) প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, 'পারমাণবিক বিদ্যুৎ একটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর খাত। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশকে (পিজিসিবি) প্রয়োজনীয় সমীক্ষা পরিচালনা করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎ ব্যবহারে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের মাধ্যমে ওই কনসেপ্ট পেপার মূল্যায়ন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার আগেই দেশের সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা হবে।'

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, 'গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আমরা বহুমাত্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে এগিয়েছি। বর্তমানে কয়লা ও সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকেও অগ্রসর হচ্ছি। এ জন্য ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।'

তিনি বলেন, 'অতীতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় গড়ে তোলা হয়নি। ফলে সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সিস্টেম বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আধুনিক স্মার্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'

সভায় মন্ত্রী স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা বিষয়ে বিস্তারিত কনসেপ্ট ও ওয়ার্কিং পেপার উপস্থাপনের জন্য পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাবনা উপস্থাপনের আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রী বলেন, 'পারমাণবিক বিদ্যুৎ আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ও জটিল ব্যবস্থা হওয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করছি।'

তিনি বলেন, 'বিদ্যুৎখাতের অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নির্ধারণে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সভা শেষে বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ।

সভায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎখাতের বর্তমান সক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। 

সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।