জ্বালানি আমদানির কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার

জ্বালানি আমদানির কমাতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছে সরকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জুন, ২০২৬ ১৯:৪১

জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনা। সরকারের এই নতুন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্থলভাগ সমুদ্রবক্ষে দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানের ব্যাপক সম্প্রসারণ। দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে।

সরকার একটি বিস্তৃত জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে। এর আওতায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পেট্রোলিয়াম শোধনের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্প, কৃষি আবাসিক খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমানে বাংলাদেশ তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির জন্য ব্যাপকভাবে আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্য, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোকেই এখন অন্যতম প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী বছরগুলোতে দেশব্যাপী ব্যাপক ভূতাত্ত্বিক সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চলবে নতুন অনুসন্ধান উন্নয়ন কূপ খননের কাজ। উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তির (পিএসসি) আওতায় সমুদ্রবক্ষে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য অতিরিক্ত ব্লক উন্মুক্ত করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণেরও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

নতুন গ্যাস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোকে সরাসরি জাতীয় সঞ্চালন লাইনের (গ্রিড) সাথে যুক্ত করতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা জ্বালানির প্রাপ্যতা সরবরাহের স্থিতিশীলতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সাথে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শিল্পায়নের বিকাশ অব্যাহত রাখতে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব অনুধাবন করে নীতি-নির্ধারকরা বিনিয়োগবান্ধব ব্যবস্থা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছেন।

আগামীর কথা মাথায় রেখে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা সরকার আবারও তুলে ধরেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের শক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের মধ্যম দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক কৌশলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে জ্বালানি নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়ন তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রবৃদ্ধি টেকসই করা, শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি স্থিতিশীল জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগগুলো অপরিহার্য বলে কর্তৃপক্ষ জোর দিয়েছে।