হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬ ১৭:০৯

আপডেট: ২৭ জুন, ২০২৬ ১৭:৫৮

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর এবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, অজ্ঞাত একটি বস্তু হরমুজ প্রণালিতে চলাচলরত একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হানে। জাহাজটির ক্যাপ্টেন হামলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জাহাজের সব নাবিক ও ক্রু নিরাপদে রয়েছেন। এছাড়া ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়া বা অন্য কোনো পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে হামলাটি কারা চালিয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, শনিবার ভোরে ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটি এ ঘটনাকে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, একাধিক ড্রোন বাহরাইনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে হামলার চেষ্টা চালায়। যদিও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বাহরাইনের দাবি, এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং অঞ্চলের উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দাবি করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, উপসাগরে একটি ট্যাংকারে ইরানি ড্রোন হামলার জবাবে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের কর্মকাণ্ড নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটি দাবি করেছে, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এর জবাবে অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।