গ্রামাঞ্চলে চলমান লোডশেডিং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নয়: মন্ত্রী

গ্রামাঞ্চলে চলমান লোডশেডিং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নয়: মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৮

আপডেট: ৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:১২

গ্রামাঞ্চলে চলমান লোডশেডিং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে নয়, বরং বিভিন্ন কারিগরি সমস্যার কারণে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) তে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে জ্বালানিখাত নিয়ে ১৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, 'বেশির ভাগ সমস্যাই কারিগরি কারণে হচ্ছে। কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটি এবং বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে একটি কারিগরি দল এবং উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণের মান নিশ্চিত করবে।'

তিনি বলেন, 'বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুরোনো চুক্তির আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তুলনামূলক উচ্চ মূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। ফলে তাদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ না হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'উৎপাদন পুরোপুরি বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে তিনি নন। তার মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মুনাফাকেন্দ্রিক হলেও সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে জনসেবাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব। তবে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় বেসরকারি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে সেটি আরও কার্যকর হতে পারতো।'

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো গেলে দেশের আর্থিক সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া অতিরিক্ত ব্যয় ও ঋণ সামাল দিতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিই কার্যকর পথ।'

তিনি বলেন, 'নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার কর-সুবিধাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা গেলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে এবং দেশের জ্বালানিখাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।'

রুফটপ সৌরবিদ্যুতের প্রসার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'ক্যাবল টিভি অপারেটররা যেমন বাড়ি বাড়ি সংযোগ দিয়ে বিল আদায় করতে পারে, তেমনই একটি কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে রুফটপ সোলারও বিস্তৃত করা সম্ভব। এতে তুলনামূলক কম দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে গ্রাহকরাও উপকৃত হবেন।'

কৃষি জমি রক্ষার বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, 'নতুন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে কৃষি জমির পরিবর্তে রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার পতিত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌর প্যানেলের নিচেও কৃষি কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্প জনস্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে, যার ফলে বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের আর্থিক দায় বহন করতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি স্মার্ট মিটার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিপুল সংখ্যক মিটার কেনা হলেও খুব অল্পসংখ্যক স্থাপন করা হয়েছে।'

জ্বালানি তেলের মজুদ প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'অতীতে সংকটের সময় অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক ও অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে দেশকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে বা উৎপাদন করে সেই অতিরিক্ত ব্যয় ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া যাবে না।'

এমন বাস্তবতায় সরকারকে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, 'ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।'

ক্যাবের সুপারিশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জনগণের মতামত সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং এসব সুপারিশ জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হবে।'