বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, 'সরকার বর্তমানে দেশের ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন করছে। একইসঙ্গে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াতে অনুসন্ধান, কূপ খনন ও অফশোর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।'
বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য সেলিনা সুলতানা (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫)-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, 'দেশে এ পর্যন্ত ৩০টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও বর্তমানে ২০টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন চলছে।'
তিনি বলেন, 'উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রগুলো হলো- তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা, সিলেট, কৈলাশটিলা, রশিদপুর, বিয়ানীবাজার, সালদা, সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, শাহবাজপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সেমুতাং, বিবিয়ানা, মৌলভীবাজার, জালালাবাদ ও বাঙ্গুরা।'
গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে ইকবাল হাসান বলেন, 'নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী বর্তমান সরকার স্থল ভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।'
তিনি বলেন, '২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যেই ২৯টি কূপ খনন বা ওয়ার্কওভার সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও আটটি কূপে কাজ চলছে। অবশিষ্ট কূপগুলোর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'নতুন সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্র শনাক্তে ব্যাপক ভূকম্পীয় (সিসমিক) জরিপও পরিচালিত হচ্ছে। ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক (২ডি) সিসমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণের কাজ চলছে।'
মন্ত্রী বলেন, 'হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় শিগগিরই ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সিসমিক জরিপ শুরু হবে। এছাড়া, ভোলার চরফ্যাশন, ছাতক-দোয়ারাবাজার, জামালপুর, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রসংলগ্ন এলাকা এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, দক্ষিণ কৈলাশটিলা ও পশ্চিম ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার সম্ভাব্য কাঠামোতেও একই ধরনের জরিপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ব্লক-১২-এ ২৫৫ লাইন কিলোমিটার এবং হিঞ্জ জোন ও ফোরডিপ এলাকায় ১ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।'
অফশোর অনুসন্ধান প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান বলেন, 'সরকার ২০২৬ সালের ২৪ মে ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক ও ১১টি অগভীর সমুদ্র ব্লকসহ মোট ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থল ভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করতে নির্বাচিত এলাকায় আন্তর্জাতিক অনশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বানের প্রাথমিক প্রস্তুতিও চলছে।'
অর্জনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, '১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হয়েছে এবং প্রাথমিক ভাবে দৈনিক ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'বাপেক্সের মাধ্যমে ব্লক-৭ ও ৯-এ ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সিসমিক জরিপ সম্পন্ন হওয়ায় তথ্য বিশ্লেষণের পর নতুন কূপ খননের সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা সহজ হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদ্যমান পাঁচটি ড্রিলিং রিগের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ২ হাজার অশ্বশক্তি ও ১ হাজার ৫০০ অশ্বশক্তির আরও দুটি ড্রিলিং রিগ কেনার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ২ হাজার অশ্বশক্তির ড্রিলিং রিগ ক্রয়ের দরপত্র মূল্যায়ন বর্তমানে চলমান রয়েছে। পরিকল্পিত দুটি নতুন রিগ সংগ্রহ করা সম্ভব হলে, বাপেক্সের মোট রিগের সংখ্যা সাতটিতে উন্নীত হবে। এতে কম সময়ে অধিকসংখ্যক কূপ খনন সম্ভব হবে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে বলে।'
আরো পড়ুন: