বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.২০% বৃদ্ধি

বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫.২০% বৃদ্ধি
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৫

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফলে এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায়। হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ০২ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলারে।

এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বহুল ব্যবহৃত আবুধাবির প্রধান রপ্তানিযোগ্য গ্রেড মুরবান ক্রুড-এর দাম সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ দশমিক ৫৭ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২২০ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একমাত্র মহাসাগরীয় বন্দর চাবাহারে সামরিক সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালায়। গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সামরিক অভিযান।

বিশ্লেষকদের মতে, চাবাহার বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে হলেও এই হামলার কারণে বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো কিংবা বাণিজ্যিক নৌপথে হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাই তেলের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।

তাদের মতে, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই অঞ্চলের নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিনে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।