ঢাকার বর্জ্য থেকে তৈরি হবে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

ঢাকার বর্জ্য থেকে তৈরি হবে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫১

আপডেট: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৫

রাজধানী ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ২০২৮ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের দৈনিক উৎপাদিত প্রায় ৩,০০০ টন বর্জ্যকে পুড়িয়ে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি মেগা প্রকল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সরকারের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগটি সরকারের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং একই সঙ্গে নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।

গত রবিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে আমিনবাজার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে মাতুয়াইল বর্জ্য-বিদ্যুৎ প্রকল্প দুটির বর্তমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান জানান, চীনের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান 'সিএমইসি গ্রুপ' আমিনবাজারে এই বর্জ্য-বিদ্যুৎ প্ল্যান্টটি নির্মাণে সরাসরি বিনিয়োগ করছে। এই কেন্দ্রটি দৈনিক প্রায় ৩,০০০ টন গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৮ সালের আগস্ট মাস থেকে এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ২৫ বছর মেয়াদি এই পরিবেশবান্ধব প্রকল্পটির ফলে একদিকে যেমন শহরের ল্যান্ডফিল বা ডাম্পিং স্টেশনগুলোর ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘ মেয়াদে মিলবে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ।

প্রথাগত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈচিত্র্যময় এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানে বাংলাদেশ যে কাজ করছে, এই প্রকল্প তারই একটি বড় উদাহরণ। বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরের এই প্রক্রিয়াটি রাজধানী ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জালানি খাতের এই বড় উদ্যোগের পাশাপাশি ঢাকার নাগরিক স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার আরেকটি পদক্ষেপের কথা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মঙ্গলবার 'ক্লিন কেয়ার' (Clean Care) নামে একটি ডিজিটাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপ চালু করেছে। নগর ভবনে এই অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এই অ্যাপের মাধ্যমে নগরবাসী তাদের এলাকার বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে পারবেন, যা দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পরিবেশগত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে এই মহাসড়কের পাশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বর্জ্য ফেলার কারণে চারপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কের দুপাশের জমে থাকা সব বর্জ্য দ্রুত অপসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং সৌন্দর্য বাড়াতে রাস্তার দুপাশে ব্যাপক হারে নিম গাছ লাগানোর একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।