কারিগরি বহির্ভূত বিদ্যুৎ ক্ষতি (সিস্টেম লস) কমানো এবং নির্বিঘ্ন রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান কর্মসূচির আওতায় চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৮২৩টি প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বাকি গ্রাহকদের জন্যও ধাপে ধাপে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কারিগরি বহির্ভূত সিস্টেম লস কমানো এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে দেশের প্রায় সব বিদ্যুৎ গ্রাহককে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ গ্রাহক প্রযুক্তিগত বা অন্যান্য কারণে এ ব্যবস্থার বাইরে থাকতে পারেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দেশের ৫ কোটির বেশি বিদ্যুৎ গ্রাহককে পর্যায়ক্রমে স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মিটারে কারসাজি, অবৈধ সংযোগ ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কারিগরি বহির্ভূত বিদ্যুৎ ক্ষতি হয়। স্মার্ট প্রিপেইড মিটার এ ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
বিউবোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা পর্যায়ক্রমে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার স্থাপন করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৩৫ লাখ ৩৭ হাজার ১২৬টি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ১৮ লাখ, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৮৪টি, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৯ লাখ ১৬ হাজার ৯১০টি, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৯ লাখ ১২ হাজার ২৩৩টি এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৩টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করেছে।
পাওয়ার সেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতি গ্রাহক গড়ে ৬৬১ কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। এছাড়া ১৩ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। চলতি বছরের ২০ মে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে।
স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থায় বিল পরিশোধ, সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা পুনঃসংযোগের ঝামেলা থাকে না। এতে কোনো ন্যূনতম চার্জ বা জামানত দিতে হয় না এবং বিতর্কিত বিলেরও সুযোগ থাকে না।
এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা প্রচলিত বিদ্যুৎ বিলের তুলনায় ২ শতাংশ মূল্যছাড় পান। ব্যালেন্স কমে গেলে বা ঋণাত্মক হওয়ার আগে আগাম সতর্কবার্তা, জরুরি ঋণ সুবিধা, অস্বাভাবিক ভোল্টেজ ওঠানামা প্রতিরোধ এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণের সুবিধাও রয়েছে এ ব্যবস্থায়।
আরো পড়ুন: