মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)—উভয় ধরনের তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ তথ্যে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪৬ ডলার বা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ৮৬ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮০ দশমিক ৪০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং এর জবাবে ইরানের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি তেলের দামে প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি সংঘাত আরও তীব্র হয় এবং পারস্য উপসাগরের জ্বালানি অবকাঠামো কিংবা হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও এলএনজি পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন ব্যয়, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর।
আরো পড়ুন: