কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) মাত্র দুই মাসে বিদ্যুৎ বিল এসেছে ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকার অধিক। এর মধ্যে এক মাসেই বিল ছাড়িয়েছে ৪২ লাখ টাকা। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণ অনুসন্ধানে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানা যায়।
আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক, আবাসিক হল ও অন্য ভবনগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণ অনুসন্ধান এবং ভবনভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফকে আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মাহবুব আলমকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটির অনুমোদন দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশল দফতরের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল এসেছে যথাক্রমে ৪২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩৭ টাকা এবং ৩৮ লাখ ২২ হাজার ১৫ টাকা। দুই মাসে মোট ব্যয় ৮০ লাখ ৫০ হাজার ৪৫২ টাকা। এর আগের তিন মাস অর্থাৎ জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের সম্মিলিত বিদ্যুৎ বিল ছিল ৮২ লাখ ৩৯০ টাকা। অন্যদিকে গত বছরের একই সময়ে বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে যার ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা।
এদিকে প্রকৌশল দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দুই মাসে আবাসিক হলগুলোর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতেই বিদ্যুতের অধিক ব্যবহার হয়েছে। এর মধ্যে মীর মশাররফ হোসেন ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ, প্রশাসন ভবন, ভিসি বাংলো, শিক্ষক-কর্মকর্তা কোয়ার্টার, মেডিক্যাল সেন্টার ও আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবনে নয় শতাধিক এসি সচল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় এসি চালু রাখা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার এবং আবাসিক হলে রান্নার কাজে হিটার ব্যবহারের কারণে বিদ্যুৎ ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তারা জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার সময় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় কারিগরি ক্ষতি (টেকনিক্যাল লস) কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ পরিবহন লাইনের রোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় একই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহে বেশি শক্তি অপচয় হয়, যা সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আগের তুলনায় এসির ব্যবহার বেড়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবন ও এসির সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন অফিস ও আবাসিক হলে রান্নার কাজে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুতের ইউনিট মূল্যও বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় কক্ষে কেউ না থাকলেও এসি, লাইট ও ফ্যান চালু থাকে। এ ধরনের অপচয় কমিয়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের তুলনায় এসির সংখ্যা, ভবন ও বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যয়ও স্বাভাবিক ভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এর বাইরে বিদ্যুৎ ব্যবহারে অপচয় হচ্ছে কি না এবং অতিরিক্ত বিলের কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। কমিটি অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবনগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরণ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দিলে তার ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আরো পড়ুন: