বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোল সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদাসহ রাশিয়ার বেশিরভাগ অঞ্চলে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে। পেট্রোল পেতে অনেক চালককে একাধিক পেট্রোল পাম্প ঘুরতে হচ্ছে, কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
নিজ শহর ভোলগদায় ফেরার পথে রুশ দম্পতি ইয়েলেনা ও দিমিত্রিকে চারটি পেট্রোল পাম্প ঘুরে শেষ পর্যন্ত পঞ্চম একটি পাম্পে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে।
গাড়িতে অপেক্ষা করার সময় ইয়েলেনা বলেন, “পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। দেখা যাক, পেট্রোল পাওয়া যায় কি না।”
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর এবারই জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদন।
এতদিন রাশিয়ায় সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত এবং ইউরোপের তুলনায় এর দামও ছিল কম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো দেশটির অনেক মানুষের নিত্যদিনের চিত্র হয়ে উঠেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন জ্বালানি সংকটকে খুব বেশি গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। ক্রেমলিনের অভিযোগ, ইউক্রেন রুশ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে এসব হামলা চালাচ্ছে।
তবে রাজধানীর বাইরে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় জ্বালানি সংকট সরাসরি মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশের বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
ভোলগদার বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। আর যেসব পাম্প চালু আছে, সেগুলোর সামনে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আরো পড়ুন: