জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় গ্যাসের বড় জরিমানা স্থগিত করল ইইউ

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় গ্যাসের বড় জরিমানা স্থগিত করল ইইউ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩৮

ইউরোপে যেন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য বড় ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। পরিবেশ রক্ষার জন্য তারা তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর ওপর যে কোটি কোটি টাকার বড় জরিমানা বসাতে চেয়েছিল, তা আপাতত তিন বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইইউর আগের পরিকল্পনা ছিল—যেসব বিশ্বমানের কোম্পানি ইউরোপে গ্যাস পাঠাবে, তারা যদি বাতাস বিষাক্ত করা বা মিথেন গ্যাস বের হওয়া থামাতে না পারে, তবে তাদের মোট উপার্জনের ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এই কড়া নিয়ম শুরু হওয়ার কথা ছিল খুব শিগগিরই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ এবং সমুদ্রে জাহাজ চলার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে তেল-গ্যাসের খুব সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বড় জরিমানা বসালে কোম্পানিগুলো ইউরোপে গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারে—এমন ভয় থেকেই ইইউ নেতাদের পিছু হটতে হয়েছে।

রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনা বন্ধ করার পর ইউরোপ এখন আমেরিকার তৈরি গ্যাসের (এলএনজি) ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে। তবে নতুন এই কড়া নিয়মের কারণে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর পক্ষে ইউরোপে গ্যাস পাঠানো কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। আমেরিকার জ্বালানি বিষয়ক প্রধান ক্রিস রাইট ছাড়াও কাতার, আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো বড় বড় দেশের কর্মকর্তারা ইউরোপীয় নেতাদের চিঠি লিখে সতর্ক করেন। তারা পরিষ্কার জানান, এত কড়া জরিমানা থাকলে তারা ইউরোপে গ্যাস না পাঠিয়ে এশিয়ার দেশগুলোতে বিক্রি করে দেবেন। পরে ইউরোপের ১৭টি দেশ এক হয়ে জরিমানা না বসানোর জন্য আবেদন করে।

সাধারণ মানুষের জন্য এই সিদ্ধান্তের মানে হলো—সামনে আসছে শীতে গ্যাস বা বিদ্যুতের দাম হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যাওয়ার বা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে গেল। ইউরোপের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো এখন নিশ্চিন্তে গ্যাস কিনতে পারবে।

তবে পরিবেশবাদী দলগুলো এই সিদ্ধান্তে খুব কষ্ট পেয়েছে। মিথেন গ্যাস পৃথিবীর তাপমাত্রা খুব দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, আর এটি বন্ধ করাই ছিল পরিবেশ বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ উপায়। তারা বলছে, জরিমানা পিছিয়ে দেওয়ায় পরিবেশের বেশ বড় ক্ষতি হবে।

সব মিলিয়ে, পরিবেশ বাঁচানোর কড়া নিয়ম আর সাধারণ মানুষের জন্য ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখার মধ্যে যখন লড়াই বাঁধল, তখন ইউরোপের নেতারা আপাতত ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখার পথটিকেই বেছে নিলেন।