বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের দেশে গ্যাস ও তেলের উৎপাদন বাড়াতে এক বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি কোম্পানি 'বাপেক্স' আগামী তিন বছরে মোট ৬৯টি নতুন কূপ খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবে বাপেক্স। এছাড়া পুরনো ৩১টি কূপ সংস্কার করে সেখান থেকে আবারও গ্যাস তোলার কাজ করা হবে। কাজগুলো আরও সহজে করতে বাপেক্সের জন্য নতুন দুটি মাটি কাটার বা ড্রিলিং মেশিন কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু ডাঙায় নয়, সমুদ্রেও গ্যাস খোঁজার কাজ জোরদার করা হচ্ছে। সমুদ্রের গভীর ও অগভীর জায়গায় গ্যাস তোলার জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোলা জেলায় যে গ্যাস পাওয়া গেছে, তা দ্রুত দেশের মূল লাইনে নিয়ে আসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
বিদেশ থেকে যখন-তখন গ্যাস আনা কঠিন হতে পারে। তাই জরুরি সময়ের জন্য দেশে জ্বালানি জমিয়ে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চট্টগ্রামে নতুন একটি তেল শোধনাগার বা রিফাইনারি তৈরি করার কাজ চলছে, যাতে অপরিশোধিত তেল এনে দেশেই ব্যবহার উপযোগী করা যায়। একই সঙ্গে অবৈধভাবে তেল ও গ্যাস চুরি বন্ধ করতে আধুনিক ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নানা গোলমালের কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ইদানিং অনেক বেড়ে গেছে। এতে সরকারের খরচ বাড়লেও সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা ভেবে দেশেই তেল-গ্যাস উৎপাদনের ওপর এখন সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বাপেক্সের এই নতুন কূপগুলো থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে আগামীতে দেশের গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন: