সৌদির দুই তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের

সৌদির দুই তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৬

আপডেট: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:১৯

লোহিত সাগরে চলাচলরত সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সৌদি আরব এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি বুধবার (২২ জুলাই) এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ‘এনসেলা’ ও ‘লাইলিয়া’ নামের দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলায় জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়।

তিনি আরও দাবি করেন, হুথিদের অভিযানের কারণে আরও কয়েকটি জাহাজ নির্ধারিত পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, তারা একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর পেয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রসদৃশ একটি বস্তুর আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজের ক্রুরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।

এর আগে গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় হুথি গোষ্ঠী। তারা জানায়, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হুথিদের অভিযোগ, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের ওপর স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে অবরোধ চালিয়ে আসছে। তবে রিয়াদ বরাবরই ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ আরোপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশেষ করে জ্বালানি তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে এই পথের গুরুত্ব অনেক।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাব আল-মান্দেব এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছিল হুথিরা। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।