কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরের মধ্যে থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। দেশি ইঞ্জিনিয়াররা অনেক চেষ্টা করেও এই সমস্যার কারণ ও সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি। ফলে অবশেষে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ টিম ডেকে আনা হচ্ছে। টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় সারা দেশে কারখানা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
এই টার্মিনালটি পরিচালনা করে আমেরিকার কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের আনা বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই টার্মিনালটি ঘুরে দেখবেন। তারা পরীক্ষা করার পরই জানা যাবে ঠিক কীভাবে এটি নষ্ট হয়েছে, কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং পুনরায় গ্যাস দিতে কতদিন সময় লাগবে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, আমাদের দেশের ইঞ্জিনিয়াররা অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই যান্ত্রিক ত্রুটি তারা ঠিক করতে পারেননি। তাই আমেরিকান কোম্পানিটির মাধ্যমে বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে। এর আগে এই টার্মিনালে কখনো এমন অদ্ভুত সমস্যা দেখা দেয়নি। তাই রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কবে গ্যাস পুরোপুরি চালু হবে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না।
কোম্পানিটির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনই বলা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা শেষ করার পর চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোম্পানি কোনো ভুল করে থাকলে তাদের জরিমানা বা মেরামতের সম্পূর্ণ খরচ দিতে হতে পারে।
এই টার্মিনালটির মূল কাজ হলো বিদেশ থেকে জাহাজে করে আনা তরল গ্যাস গ্রহণ করা এবং তা গ্যাসে রূপান্তর করে আমাদের জাতীয় লাইনে পাঠানো। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন জাতীয় লাইনে প্রায় ৪৫ কোটি (৪৫০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ একদম কমে গেছে। অনেক সিএনজি পাম্পে গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ির লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে এবং কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গ্যাস নিয়ে আসা একটি জাহাজ টার্মিনালে ভিড়ার ঠিক আগেই সেখানে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। তবে বড় কোনো বিপদের আগেই জাহাজটিকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে গ্যাস আনার জন্য মাত্র দুটি টার্মিনাল আছে। এর একটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই বড় সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের দেশে বিদ্যুতের কেন্দ্র অনেক বাড়লেও গ্যাস আনার নতুন ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এই ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পুরো দেশকেই কষ্ট পোহাতে হয়।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং এখন জরুরি খাতগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।
আরো পড়ুন: