তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের দায় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে সরকারের লোকসান হচ্ছে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অবস্থিত এই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটি দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৭ থেকে ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
আশুগঞ্জ সার কারখানা শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু কাউসার বলেন, ১৯৮৩ সালে চালুর পর থেকে কারখানাটি প্রতি বছর প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টন সার উৎপাদন করে আসছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ পেলে আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি বলেন, মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য গ্যাস পাওয়া গেলেও দীর্ঘ বন্ধের পর যন্ত্র চালু করতে গিয়ে নানা ধরনের কারিগরি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সমস্যাগুলো সমাধান করে উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই আবার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কাজের সুযোগ না থাকায় কর্মীদের দক্ষতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
আশুগঞ্জ সার কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংক ঋণ ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন চাষাবাদ মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান করে আশুগঞ্জ সার কারখানা চালু করা জরুরি।
আরো পড়ুন: