কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরির অনুমোদন দিল সরকার

কুতুবজোমে নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরির অনুমোদন দিল সরকার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২১:৪১

কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে দ্রুত একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি একটি টার্মিনালে আগুন লাগার পর দেশজুড়ে যে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, তা কাটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় চীনা প্রতিষ্ঠান 'চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি'-এর সাথে সরকারি আলোচনার মাধ্যমে কাজ করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি একটি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ অনেক কমে যায়। বাধ্য হয়ে বাসাবাড়ি, কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস দেওয়া কমিয়ে দেয় পেট্রোবাংলা।

দেশে নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে তরল গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। এই তরল গ্যাসকে ভাসমান টার্মিনালে প্রক্রিয়াজাত করে আবার গ্যাসে রূপান্তর করা হয় এবং পাইপলাইনে দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র দুটি টার্মিনাল থাকায় একটি নষ্ট হলেই পুরো দেশ সংকটে পড়ে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে দিনে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হলেও এখন সরবরাহ আছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দিনে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে, যার প্রভাব পড়েছে কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় তারা কারখানা ঠিকমতো চালাতে পারছেন না। নতুন কুতুবজোম টার্মিনালটি তৈরি হলে দেশে গ্যাস আমদানির সুযোগ বাড়বে এবং একটি নষ্ট হলেও বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।

নতুন এই প্রকল্পের মোট খরচ বা কাজ শেষ হতে কতদিন লাগবে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এই টার্মিনাল চালু হলে দেশের গ্যাস সংকট অনেকটাই কমে আসবে।