গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন অর্থাৎ গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই কার্যত আত্মগোপনে চলে যান নায়ক রিয়াজ। এখন পর্যন্ত রয়েছেন লোকচক্ষুর অন্তরালেই।
এরপর থেকে তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি কিংবা চলচ্চিত্র অঙ্গনের কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি। রিয়াজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়ে ওঠেনি অনেকের কাছে। কেউ কেউ রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়ান।
তবে রিয়াজের পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।
বুধবার সন্ধ্যায় রিয়াজের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানানো হয়, অভিনেতা জীবিত ও সুস্থ আছেন।
রিয়াজের স্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের খবর একেবারেই সত্য নয়। রিয়াজ সুস্থ আছেন। যেখানেই আছেন, তিনি ভালো আছেন।’
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের দাপুটে অভিনেতা রিয়াজ গত কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনিয়মিত। তবে পর্দায় উপস্থিতি কমলেও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সরব। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দলের নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নিয়েছেন এবং নিয়মিত বক্তৃতা দিয়েছেন রিয়াজ।
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিটিভি ও এফডিসিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের অন্যতম নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া সে সময়কার আলোচিত ও বিতর্কিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তিনি বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তবে ০৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই নিজেকে সব মাধ্যম থেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিয়েছেন এই নায়ক।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে পা রাখা রিয়াজ টানা দুই যুগ শীর্ষ জনপ্রিয় মুখ হিসেবে রাজত্ব করেছেন। সুপারহিট সব সিনেমা উপহার দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দর্শক নন্দিত। ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি।
আরো পড়ুন: