নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টাকারীরা স্বৈরাচারের দোসর: প্রেস সচিব

নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টাকারীরা স্বৈরাচারের দোসর: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:৪৫

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, 'এখনো নির্বাচন নিয়ে যারা বিভ্রান্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, তারা পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর।'

শুক্রবার সকালে নেত্রকোণার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

শফিকুল আলম বলেন, 'এই সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। সারাদেশে এখন নির্বাচনের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে।'

তিনি বলেন, '৯ মাসে ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে আলী রীয়াজ পালিয়ে গেছেন বলে এক ব্যক্তি বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু এই টাকার হিসাব তিনি কোথায় পেলেন আমার জানা নাই। এখন ডাহা মিথ্যা বললে অনেকের জনপ্রিয়তা বাড়ে। তাই জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য অনেকেই মিথ্যাচার করে থাকেন।'

প্রেস সচিব বলেন, 'বিদেশে প্রচলন আছে, টেলিভিশনে কাকে আপনি টকশোতে আনবেন- যাকে আপনি টকশোতে আনবেন তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী মানুষ এবং তার গ্রহণযোগ্যতা আছে। কিন্তু আমাদের দেশে চলে এটার বিপরীত। একটা লোক যদি ডাহা মিথ্যা কথা বলে, তাকে আপনি টকশোতে আনছেন। কারণ তাকে আনলে আপনার টকশোটা গরম হবে। টিভির জনপ্রিয়তা বাড়বে। তাহলে কী হলো- টিভি হিসেবে আপনি জোর করে তাকে দিয়ে বলানো মিথ্যা কথাটা জনগণকে দিচ্ছেন। এই মিথ্যা প্রচারিত হচ্ছে, সারাদেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে। আপনি এগুলো জেনেও তাকে আপনি ডেকে আনছেন।'

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, 'আমরা মাইলস্টোন নিয়ে মিথ্যাচার দেখেছি, সেন্টমার্টিন নিয়ে এমন কোনো মিথ্যাচার বাদ যায়নি, যা বলা হয়নি। আমরা উপদেষ্টাদের নাগরিকত্ব নিয়ে মিথ্যাচার দেখেছি, আমরা মিনিস্ট্রি নিয়ে মিথ্যাচার দেখছি, সেনাবাহিনী নিয়ে মিথ্যাচার দেখেছি। সুতরাং এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি নিজেও এক সময় সাংবাদিকতা করেছি। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে শিক্ষা কোন বিষয় নয়। হোক সে মেট্রিক, ইন্টারমিডিয়েট বা এমএ পাশ। এতে করে কোনো কিছু যায় আসে না। তাকে সাংবাদিকতার নিয়ম কানুন সম্পর্কে জানতে হবে। সাংবাদিকরা মালিকদের কাছ থেকে তেমন কোন সুযোগ সুবিধে পায়না বিষয়টি আমি ভাল করেই জানি। বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন মালিকরা জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সংবাদ কর্মীদের নিয়মিত ভেতন-ভাতা প্রদান করছেন না। সাংবাদিকতার একটি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে অনেকটা বিনা পারিশ্রমিকেই তাদেরকে দিয়ে মাঠ কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। একটি কার্ড ধরিয়ে দিয়ে তাদেরকে মাঠে ছেড়ে দিয়েছেন। অথচ তারাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলেন। সাংবাদিকদেরকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।'

এই সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, 'সংস্কার কমিশনের কাজও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। কী পরিমাণ সংস্কার হয়েছে তার স্পষ্ট দলিল থাকবে। আর গণভোটের বিষয়ে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে।'

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'দেশে এখন কোনো ধরনের মব ভায়োলেন্স নেই। আর বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই মব ভায়োলেন্স ছিল। আমাদের সময়ও কিছু মব ভায়োলেন্স হয়েছে, এটা আমরা অস্বীকার করছি না। কিন্তু এখন সব ধরনের মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। যারা মব ভায়োলেন্সে ভয় পান বা এসব নিয়ে কথা বলেন, তাদের ভেতরে দুর্বলতা আছে। তারা স্বৈরাচারের দোসর।'

সীমান্ত পথে চোরাচালান নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, 'আইন-শৃংলা বাহিনী সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে আছে। চোরাচালান আগের চেয়ে অনেক কমেছে।'

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাফিকুজ্জামান, নেত্রকোণা জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোণা জেলা প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজমুশ শাহাদাৎ নাজু, কোষাধক্ষ্য সুজাদুল ইসলাম ফারাসসহ বিভিন্ন প্রেন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।