রাজধানীর সূত্রাপুরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ব্যক্তির নাম তারিক সাঈদ মামুন (৫০)। সোমবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সাঈদ মামুনকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মামুন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। মামুন লক্ষ্মীপুর সদরের মোবারক কলোনির বাসিন্দা। বর্তমানে আফতাবনগর এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহত মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী বিএনপি সমর্থিত একজন কর্মী ও পাশাপাশি ব্যবসা করতো। আজ তার কোর্টে হাজিরা ছিল। আমরা জানতে পারি আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে এসে আমার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।’
নিহতের খালাতো ভাই হাফিজ বলেন, ‘আমার ভাই তারিক সাঈদ মামুন একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না। কারা বা কেন তাকে হত্যা করেছে, আমরা জানি না।’
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, ‘বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে হাসপাতালের সামনের রাস্তায় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। বাইরে গিয়ে দেখি এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছেন। আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
তিনি বলেন, ‘নিহতের পরিচয় তখন কেউ জানত না। কে বা কারা গুলি করেছে, সেটাও বলতে পারছি না।’
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ‘লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সূত্রাপুর থানাকে জানানো হয়েছে।’
সূত্রাপুর থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে। পরে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’
আরো পড়ুন: