চাঁদপুরে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

চাঁদপুরে হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৯:১৩

চাঁদপুরে রেহান উদ্দিন মিজি হত্যা মামলায় মো. খোরশেদ আলমকে (২৭) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণাকালে আসামি মো. খোরশেদ আলম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খোরশেদ আলম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের শেফালী পাড়া জোড় ভূঁইয়া বাড়ির মৃত মোস্তফা ভূঁইয়ার ছেলে।

নিহত রেহান উদ্দিন মিজি (৫৫) শরীয়তপুরের সখিপুর থানার দক্ষিণ তারাবুনিয়ার বাসিন্দা। তিনি পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের নিউ ট্রাক রোড খান সড়কের তামান্না শারমীন ভিলার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি পেশায় ড্রেজার ব্যবসায়ী ছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি এডভোকেট কোহিনুর বেগম। আসামিপক্ষে ছিলেন এডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। 

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেহান উদ্দিন মিজির সাথে আসামি খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন জুয়া খেলতেন। তারই ধারাবাহিকতায় খোরশেদ কয়েকবার রেহানের কাছে জুয়া খেলায় হেরে যায়। এ ঘটনার জের ধরে খোরশেদ ২০২১ সালের ২৩ জুন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রেহান উদ্দিনের ভাড়া বাসায় জুয়া খেলতে এসে পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে। ওইদিন হত্যাকাণ্ডের শিকার রেহান উদ্দিনের স্ত্রী পারভীন বেগম পারিবারিক কাজে সখিপুর নিজ এলাকায় ছিলেন। দুপুরে তাকে ফোনে না পেয়ে রেহানের স্ত্রী পাশের বাসায় থাকা আরেক ভাড়াটিয়া মরিয়ম বেগমকে দেখার জন্য বলেন। তিনি দেখেন বাসার দরজা খোলা এবং রেহান উদ্দিন বিছানায় উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। 

খবর পেয়ে পুলিশ এসে রেহান উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ওই বছরের ২৫ জুন চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন রেহান উদ্দিনের স্ত্রী পারভীন বেগম। তদন্ত চলাকালে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামি খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করে এবং ০১ জুলাই তাকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক এনামুল হক চৌধুরী মামলাটি তদন্ত শেষে ওই বছরের ১০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট কোহিনুর বেগম বলেন, 'এ মামলায় আদালত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি, আসামি খোরশেদ আলম নিজে অপরাধ স্বীকার করেছেন।'

তিনি বলেন, 'মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার আজ রায় ঘোষণা করেন।