স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, 'আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।'
সোমবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'সরকার জাতির জন্য একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। নির্বাচনে মিডিয়া এবং সকল অংশীজনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
তিনি বলেন, 'প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংস্থাগুলো সমন্বয় করে কাজ করলে ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে, সরকার নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ, আনসার, সেনাবাহিনীসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রায় নয় লাখ কর্মী মোতায়েন করবে।'
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'সকল সংস্থার সদস্যদের জন্য নির্বাচনি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা হয়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি-ওয়্যার ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠতম পুলিশ কর্মকর্তা এই ডিভাইসটি পরিচালনা করবেন।'
তিনি বলেন, 'দলীয় প্রভাব রোধ এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য, ৬৪টি জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সামনে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করা হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর পদায়ন ও বদলির পূর্ণ কর্তৃত্ব গ্রহণ করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'নিরপেক্ষতা জোরদার করার জন্য গত তিনটি সাধারণ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের এবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। ডিসি, ইউএনও, এসপি এবং ওসিসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রধান প্রশাসকদের মধ্যে মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা, লজিস্টিক সহায়তা এবং সমন্বয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনীতিবিদদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।'
বিজিবি জানিয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য দেশব্যাপী মোট ১ হাজার ২১০ প্লাটুন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
সন্দ্বীপ, হাতিয়া এবং কুতুবদিয়া ছাড়া সকল উপজেলায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন এবং ১১৫টি সীমান্তবর্তী উপজেলার মধ্যে ৬০টিতে স্বাধীন ভাবে কাজ করবেন। বিজিবি সদস্যদের জন্য নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ২৪ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে শুরু হয়েছিল। চার ধাপে প্রশিক্ষণটি ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
আরো পড়ুন: