দুই মামলায় আইভীর জামিন না মঞ্জুর

দুই মামলায় আইভীর জামিন না মঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৯:৫১

নারায়ণগঞ্জ সিটির সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে নতুন করে দেখানো পাঁচটি মামলার মধ্যে দুই মামলায় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলা দুটির শুনানি হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদের আদালতে সদর থানা পুলিশের ওপর হামলা এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় ফতুল্লা থানার ইয়াসিন হত্যা- এই দুই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আইভীর আইনজীবীরা জানান, দুই মামলার এজাহারে সাবেক মেয়র আইভীর নাম না থাকলেও আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। অথচ এর আগে একই মামলার এজাহারে নাম না থাকা আরও ১৯ জনের জামিন আদালত মঞ্জুর করেছিলেন। একই মামলায় সহ-আসামিরা জামিন পেলেও তাঁকে জামিন না দেওয়ায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।

এ আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

আইনজীবীরা আরও জানান, হাইকোর্ট ইতোমধ্যে পাঁচটি মামলায় মেয়র আইভীকে জামিন দিলেও নতুন করে তাঁকে আরও পাঁচ মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে- যেগুলোর কোনোটাতেই তাঁর নাম নেই। আজ ইয়াসিন হত্যা মামলার শুনানি হয়, যেখানে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে- শামীম ওসমান ও অয়ন ওসমানই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও গুলি করে ইয়াসিনকে হত্যা করেছেন। আর অপর মামলায় বলা হচ্ছে আইভী পুলিশের ওপর হামলা করেছেন। কিন্তু ঘটনার সময় আইভী পুলিশ হেফাজতেই ছিলেন। এই মামলার এজাহারেও তাঁর নাম নেই। এরপরও পুলিশকে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরেকটি মামলায়ও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আরও পাঁচটি মামলায় পুলিশের ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন। এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় দায়ের করা চারটি হত্যা মামলা এবং সদর থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার একটি মামলা রয়েছে।

এর আগে গত ০৯ মে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ০৯ নভেম্বর নাসিকের সাবেক মেয়র আইভীকে পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে ওই পাঁচটি মামলার জামিন পরবর্তীতে আপিল বিভাগ স্থগিত করে। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া চারটি হত্যা মামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার আরও একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।