নির্বাচন পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য: প্রধান উপদেষ্টা
ছবি: পিআইডি।

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৫

আপডেট: ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ২২:২০

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, 'আগামী নির্বাচন ও গণভোট দুটিই জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন আগামী পাঁচ বছরের জন্য, আর গণভোট শত বছরের জন্য।'

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে সারাদেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ভিডিও কনফারেন্সের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, 'ভিডিও কনফারেন্সে সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা এ সময় অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।'

গণভোট সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশটাকে স্থায়ী ভাবে পাল্টে দিতে পারি। যে নতুন বাংলাদেশ আমরা তৈরি করতে চাই, তার ভিতটা এর মাধ্যমে গড়তে পারি।'

তিনি বলেন, 'গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আগামী নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। এই নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠু ভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখতে হবে।'

ইউএনওদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, 'ইতিহাস আমাদের নতুন করে একটি সুযোগ দিয়েছে। অন্য জেনারেশন এ সুযোগ পাবে না। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো, আর যদি না পারি তাহলে জাতি মুখ থুবড়ে পড়বে।'

তিনি বলেন, 'আপনারা যদি সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করেন তাহলেই সরকার তার দায়িত্বটি সফল ভাবে পালন করতে সক্ষম হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'এর আগেও আমরা নির্বাচন দেখেছি। বিগত আমলে যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, যেকোনো সুস্থ মানুষ বলবে- এটা নির্বাচন নয়, প্রতারণা হয়েছে।'

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আগামী নির্বাচন অন্যান্য দায়িত্বের মতো নয়; বরং একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা যদি ভালো ভাবে এই দায়িত্বটি পালন করতে পারি, তাহলে আগামী নির্বাচনের দিনটি জনগণের জন্যও ঐতিহাসিক হবে।'

সদ্য যোগ দেওয়া ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনাদের প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।'

ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার সব পোলিং স্টেশন পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, এলাকাবাসী এবং সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন ড. ইউনূস।

গণভোট বিষয়ে ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, 'ভোটারদের বোঝাতে হবে যে আপনারা মন ঠিক করে আসুন হ্যাঁ-তে দেবেন না কি না-তে ভোট দেবেন। মন ঠিক করে আসুন।'

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, 'ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়।'

তিনি কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৃজনশীল হওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, 'নারীরা যেন ঠিক ভাবে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।'

শীঘ্রই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে উল্লেখ করে ইউএনওদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত কখন, কীভাবে, কোন কাজটি করবেন তার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিন।'

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।