ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। শুক্রবার দুপুর ২টার পর থেকে সেখানে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা এবং তা রাতভর চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি খারাপ করা হলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অবরোধকারীরা।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চ ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বাংলাদেশের জনগণকে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে এসে অবস্থান করার আহ্বান জানায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর সরেজমিনে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অবরোধের ফলে শাহবাগ মোড় দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সন্ধ্যায় অবরোধ কর্মসূচিতে বলেন, ‘খুনিদের গ্রেপ্তার করতে আমরা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দিয়েছিলাম। সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন লাগাতার আন্দোলন চলবে। সরকার ওসমান হাদির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারে নাই। এখন খুনিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত সরকার পদত্যাগও করতে পারবে না। পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, খুনিদের গ্রেপ্তারই একমাত্র সমাধান।’
নিজেদের আন্দোলন সম্পর্কে জাবের বলেন, ‘আমরা রাতভর অবস্থান করবো। যতক্ষণ পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হয়, অবরোধ কর্মসূচি চলবে।’
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘেরাও করার হুমকি দেন। তিনি বলেন, 'সরকারের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, বিচার নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ওসমান হাদির বিচারের দাবি এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আমরা রাজপথে নেমেছি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। আমরা কিন্তু আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই বলে দিতে চাই, আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।'
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। এ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। টানা পাঁচ ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলতে থাকায় আশপাশের রাস্তায় যানজট দেখা যায়।
গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রিকশায় আরোহী হাদি মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ওই দিন রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
আরো পড়ুন: