সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে দস্যু বাহিনীর হাতে রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটক অপহৃত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার সুন্দরবন সংলগ্ন কেনুর খাল এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।
তাদের ছাড়তে দস্যুরা মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা গেছে।
পর্যটকরা গোল কানন নামে এক রিসোর্টে ঘুরতে এসেছিলেন। তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা।
শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে লুকোচুরি করছে বলে জানা যায়। অপহৃত দুই পর্যটক রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা বলে জানা গেলেও তাদের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তবে দাকোপ থানা পুলিশের তথ্য মতে, অপহৃত দুই পর্যটক হলেন মো. সোহেল ও জনি। রির্সোট মালিকসহ দুই পর্যটককে ছাড়িয়ে আনতে দস্যুদের সঙ্গে দেন দরবার চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন, বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার নারী-পুরুষসহ চার পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। এদিন দুপুরে তারা সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত রিসোর্ট গোল কানন-এ বুকিং নিয়ে রাত যাপনের জন্য ওঠেন। পরে বিকেলে গোল কানন রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকায় চড়ে বনের ছোট খালে ঘুরতে বের হন।
রিসোর্ট সংলগ্ন ওই খাল থেকে নারীসহ পাঁচ জনকে তুলে নেয় সশস্ত্র দস্যুরা। রাতে দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দেয় দস্যুরা। তবে রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে রাখে। জিম্মি থাকা পর্যটকদের কাছে দস্যুরা মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা যায়।
তবে মুক্তিপণ হিসেবে কত টাকা দাবি করেছে তারা, তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি। এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড়।
এদিকে, এ ঘটনা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন বনবিভাগের ঢাংমারী স্টোশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী। তবে কোন দস্যু বাহিনী এ পর্যটকদের অপহরণ করেছে তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি তিনি।
বনে পর্যটক অপহরণের ঘটনায় শনিবার দিনব্যাপী রিসোর্ট এলাকায় কোনো ট্যুর নৌযান কিংবা পর্যটক যাতায়াত করেনি। পর্যটকদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খুলনার দাকোপ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে সুন্দরবনে রিসোর্টে ঘুরতে এসে দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিক অপহৃত হয়েছেন। তাদের উদ্ধারে থানা ও নৌ পুলিশ এবং কোস্ট গার্ড যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।
আরো পড়ুন: