রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে দুই দফা মারধরের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে করা আবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত মামলায় মূল অভিযুক্ত মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক জাকির হোসেন এ তথ্য জানান।
মামলার তদন্তে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে একটি প্রাইভেটকার নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যান নাঈম কিবরিয়া। এ সময় তার গাড়ির সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়, যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে একাধিক মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তি নাঈম কিবরিয়ার ওপর হামলা চালায়। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় নাঈম কিবরিয়াকে রাত পৌনে ১১টা দিকে (আনুমানিক) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নাঈমের বাবা গোলাম কিবরিয়া গত ০২ জানুয়ারি ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের দুই দিনের মাথায় রোববার বারিধারা এলাকা থেকে মূল আসামি পাপ্পুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মতি জানান। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাপ্পু তার মোটরসাইকেলসহ আরও দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়ক থেকে নাঈম কিবরিয়ার গাড়ির পিছু নেন।
পরে আই ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দিয়ে নাঈম কিবরিয়ার গাড়ি থামানো হয়। গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই পাপ্পুসহ পাঁচ থেকে ছয় জন তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করেন।
প্রথম দফায় মারধরের পর নাঈম কিবরিয়াকে জোর করে একটি মোটরসাইকেলে তুলে আই ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের পাশে নেওয়া হয়। সেখানে আরও সাত থেকে আট জন ব্যক্তি তাকে পুনরায় মারধর করেন, বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আরো পড়ুন: