দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারও দেশের মোট ২৪টি জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। একই সঙ্গে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভুক্ত আরও ১৬টি জেলাও শৈত্যপ্রবাহের কবলে রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী নিকটস্থ এলাকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সড়ক, নৌ ও বিমান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
শুক্রবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যেখানে তাপমাত্রা নেমেছে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, জানুয়ারি মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এ ধরনের শৈত্যপ্রবাহ স্বাভাবিক হলেও চলতি শীতে কুয়াশার ঘনত্ব ও শীতের তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হচ্ছে। এর ফলে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও শারীরিকভাবে দুর্বল মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতজনিত রোগ এড়াতে গরম পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি সকালে ঘন কুয়াশার সময় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি, শীতপ্রবাহপ্রবণ এলাকায় দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কিছুটা বাড়তে পারে।
আরো পড়ুন: