ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে শনিবার রাজধানীর রামপুরা–নতুনবাজার সড়কের একাধিক অংশে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো মানুষ।
রামপুরা ব্রিজ থেকে বাড্ডা লিংক রোড হয়ে নতুনবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকে বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, রাইডশেয়ারিং যান এবং পণ্যবাহী ট্রাক। অনেক যাত্রী জানান, এক ঘণ্টার বেশি সময় একই স্থানে আটকে থাকতে হয়েছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।
এই সড়কটি কুড়িল, মহাখালী, গুলশান ও বনানীসহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। ফলে যানজটের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয় এবং বিকল্প রুটে যানবাহন চলাচলের চেষ্টা করা হয়। একজন ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন,
“বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। আমরা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করেছি।”
বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানান এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদ জোরদার করতেই এই কর্মসূচি।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে সামান্য সময়ের সড়ক অবরোধও বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি করতে পারে। বিকল্প সড়কের অভাব এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
বিকেলের দিকে বিক্ষোভকারীরা সরে গেলে ধীরে ধীরে সড়কের কিছু অংশ খুলে দেওয়া হয়। তবে যানজট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগে। পুলিশ নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া এই রুট এড়িয়ে চলার এবং যাত্রার আগে ট্রাফিক আপডেট জানার পরামর্শ দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও ঘটনাটি আবারও ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে।
আরো পড়ুন: