উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টা

উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনের উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টা
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা নিয়ে তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ছবি: পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৯

আপডেট: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১৪

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আয়োজিত তিন দিনের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন। রাজধানীর একটি হোটেলে মঙ্গলবার সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এ সম্মেলনের শিরোনাম “দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন: উচ্চশিক্ষার অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা (সার্চ ২০২৬)”। সম্মেলনের লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উচ্চশিক্ষা খাতে অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিগত সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের পথ তৈরি করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাগণ, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউজিসি কর্মকর্তারা জানান, হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ইউজিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে, যার উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষা খাতে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, গবেষণা ও উদ্ভাবন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনা।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনটি আগামী ১৫ জানুয়ারি শেষ হবে।

তিন দিনে মোট আটটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনের আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, শাসনব্যবস্থা, গুণগত মান ও অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং সমাজের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পৃক্ততা নিয়েও আলোচনা হয়।

দ্বিতীয় দিনের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চশিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম, স্নাতকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কাঠামো গঠনে আঞ্চলিক সংহতি ও নেটওয়ার্কিং।

শেষ দিনে উচ্চশিক্ষায় লিঙ্গসমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে “ঢাকা উচ্চশিক্ষা ঘোষণা” গ্রহণের মধ্য দিয়ে, যা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য একটি যৌথ নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে আয়োজকরা আশা করছেন।

ইউজিসি জানিয়েছে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।