আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংবিধান সংস্কার নিয়ে একটি গণভোট আয়োজন করা হবে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর আলোকে এই গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।
গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ব্যাপক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এই দুই অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষা দপ্তরকেও নির্দেশনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।
সোমবার পৃথকভাবে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণভোটের লোগো সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন দৃশ্যমান ও দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি যোগাযোগ ও দাপ্তরিক চিঠিপত্রে গণভোটের নির্ধারিত লোগো ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাউশি থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি যোগাযোগে— যেমন পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্রে— গণভোটের লোগো ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের সামনে অন্তত দুটি করে খাড়া ব্যানার প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে এবং শিক্ষার্থীদের সহায়তায় গণভোটের বার্তা পরিবার পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেও প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উভয় নির্দেশনাতেই উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ উল্লিখিত রাষ্ট্র সংস্কারের মৌলিক প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত জানতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পদের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছরে সীমিত করা, জাতীয় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দলের যৌথ ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার করা।
সচেতনতামূলক প্রচারণায় জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যানার ও ফেস্টুনে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “পরিবর্তনের চাবি এবার আপনার হাতে।”
কর্তৃপক্ষের আশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এই প্রচারণার মাধ্যমে গণভোট সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ভোটাররা সংস্কার প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন।
আরো পড়ুন: