পে কমিশনের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি এবং কমিশন নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই নতুন পে স্কেল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগীয় সম্মেলন কক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পৃথক দুটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশনের কাজ কখনোই বন্ধ হয়নি। কমিশন ধারাবাহিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে কি না, সেটি মুখ্য বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, ২১ সদস্যবিশিষ্ট পে কমিশন বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষণ করছে। এটি একটি বিস্তৃত ও জটিল কাজ, যার জন্য বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
অর্থ উপদেষ্টা ইঙ্গিত দেন, শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। আলোচনা শেষে কমিশন তাদের অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সেবাখাতের জন্য পৃথক পৃথক মতামত ও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের জন্য আলাদা প্রতিবেদন রয়েছে এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের জন্যও আলাদা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব বিষয় স্বতন্ত্রভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তিনি বলেন, প্রতিবেদন গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন দুটি ভিন্ন ধাপ। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করবে এবং এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, পে কমিশন অংশীজনদের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। অনেকেই লিখিত মতামত দিয়েছেন, আবার অনেকে সরাসরি কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। সব পক্ষের মতামত শোনার জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠন এবং উন্মুক্ত আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং পে কমিশনের সুপারিশ যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
আরো পড়ুন: