মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: বাসস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৫৫

আপডেট: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:০১

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থান দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে একটি অভিযোগে উভয়ের ক্ষেত্রে আমৃত্যু কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ ওই আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।

এই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামিম। শুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা।

পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানিতে অংশ নেন। রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

মামলাটিতে গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিহত প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের একাধিক সদস্য সাক্ষ্য দেন। পাশাপাশি স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। এ মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে বক্তব্য দেন।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন সরকার, দলীয় ক্যাডার এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।

বর্তমানে এসব অভিযোগের বিচার দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।