গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৭

আপডেট: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:১৯

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। 

সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও-বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এ বার্তা সম্প্রচার করে।

বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে। ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। ‘হ্যাঁ’-তে আপনি নিজে সিল দিন। আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ার এই সুযোগ নেবো।'

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এটি অপ্রত্যাশিত ভাবে জাতির জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্যে আমরা এর মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করেছি। আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের জন্য দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছে। এ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সম্মতি প্রয়োজন। এর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এ গণভোটে অংশ নিন। সনদে আপনার সম্মতি দিন।'

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'গণভোটে আপনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ আর নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছামত সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।'

তিনি বলেন, 'এতে আরও বলা আছে- বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিরা নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন ভাবে কাজ করবে। সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। আপনার মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি পাবে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীদের রাষ্ট্রপতি ইচ্ছামতো ক্ষমা করতে পারবেন না। সব ক্ষমতা একজন প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। এ রকম আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব এর মধ্যে রয়েছে।'

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'আগামী নির্বাচনে গণভোটে অংশ নিন। রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশা মতো গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন।'