অর্থ উপার্জনের আশায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী চালক মো. সোহেল মিয়াকে হত্যা করে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু'জনসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছিনতাইকৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা হলেন- মো. সুজন মিয়া (৩৩), মো. শফিকুল ইসলাম হীরা (৩৯)। তাদের সহযোগী মো. দুলাল মিয়া (৪৫), মো. আব্দুর রহিম মিয়া (৫৫) ও মো. আবুল কাশেম (৪০)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, অর্থের অভাবে উপার্জনের আশায় আসামি সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা পরিকল্পিত ভাবে সোহেলকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার বিকেলে তারা সোহেলের অটোরিকশা ভাড়া করে স্থানীয় একটি বাজারে যান। সেখানে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে সোহেলকে খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে তাকে মুছারচর এলাকার একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সোহেলের হাত, নাক ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে মোড়িয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
হত্যাকাণ্ডের পর ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি রূপগঞ্জ এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হয়। পরে তা বিক্রি করা হয়। অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত তিন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে চোরাই অটো কেনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইকৃত ও চোরাই অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলেও জানিয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজন মিয়া ও শফিকুল ইসলাম হীরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য তিন জন ছিনতাইকৃত অটো কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।'
জানা যায়, নিহত সোহেল শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পর দিন মঙ্গলবার সকালে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের মুছারচর এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি সোহেলের বলে শনাক্ত করে তার পরিবার। লাশের নাক, মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. মহসিন মিয়া বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআই অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে।
আরো পড়ুন: