চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ড: সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ঢাকার সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাসহ আট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। তারা সবাই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। একই মামলায় আরও পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে রায়ের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশেদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদের মধ্যে কয়েকজন রায় ঘোষণার সময় কারাগারে ছিলেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার বিচারকালে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ। পরে নিহতের পরিবার সদস্যসহ মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা গ্রহণ করা হয়। মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও সাক্ষ্য প্রদান করেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ছাড়াও একাধিক প্রসিকিউটর শুনানিতে অংশ নেন। অপরদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ও ব্যক্তিগত আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করেন।

এই রায়কে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিচারিক মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্নে একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হলো, যা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বিচারিক নজির হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।