নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরাসরি ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি (ইইসি) অথবা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে অভিযোগের একটি অনুলিপি কমিশনে পাঠানোর অনুরোধও করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ নির্দেশনার কথা জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনে সরাসরি অভিযোগ জমা দিলে সেটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পৌঁছাতে একাধিক দিন সময় লাগে। এই বিলম্বের ফলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব ও কার্যকারিতা কমে যায়।
আখতার আহমেদ ব্যাখ্যা করে বলেন, একই অভিযোগ যদি সরাসরি ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জানানো হয়, তাহলে তা দ্রুত যাচাই ও নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়। এজন্য দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের প্রতিটিতে গঠিত ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, অভিযোগের একটি কপি কমিশনে পাঠানো হলে ইসি তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ফলোআপ করতে পারবে, ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
ব্রিফিংয়ে পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ব্যালট দেশে পৌঁছানো এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো জটিলতার সুযোগ নেই। দূরত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ সময় হিসাব করেই পোস্টাল ব্যালট প্রদান, ফেরত পাঠানো ও গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, এই সময়সূচির মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ভোট গণনা প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের গণনা আলাদাভাবে হলেও দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলবে। তবে পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ভোট গণনায় তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগতে পারে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাধারণ ভোটকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোটারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তারা পৃথকভাবে গণনার দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে একটি জেলার সব পোস্টাল ভোট একত্রে গণনা করা হয়। ফলে কোনো কোনো জেলায় কয়েকটি কেন্দ্রের সমপরিমাণ ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে হওয়ায় সময় বেশি লাগা স্বাভাবিক।
ব্রিফিং শেষে ইসি সচিব নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করতে চায়।
আরো পড়ুন: