জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের মামলা প্রত্যাহারে আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের মামলা প্রত্যাহারে আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২২

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। আইনটির মাধ্যমে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলমান ও ভবিষ্যৎ আইনি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশিত গেজেটে জানানো হয়, নতুন এই আইনটির নাম ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। রোববার গেজেট প্রকাশের পর সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ।

অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যায়, ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।

আইন অনুযায়ী, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন পাওয়া কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে যদি মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকে, তবে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একই সঙ্গে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ এবং ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সেই বিষয়টি সরাসরি আদালতে নয়, বরং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করার বিধান রাখা হয়েছে।

মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট ঘটনা রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংঘটিত, তাহলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা চলবে না। তবে কমিশন প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে।

অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো সহিংস ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপরাধমূলক অপব্যবহার হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে কমিশন সেই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠাবে। আদালত তখন সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদনের সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। গেজেটে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংসদ ভেঙে থাকা অবস্থায় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

আইনটিকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হবে এবং এটি বিদ্যমান অন্য যেকোনো আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।

আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই অধ্যাদেশ জুলাই আন্দোলনের ঘটনাবলির আইনি নিষ্পত্তিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও, এর প্রয়োগ ও মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।